• শিরোনাম

    বরুড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কবির আহমদের মানবেতর জীবনযাপন

    এমডি আজিজুর রহমান | বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭

    বরুড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কবির আহমদের মানবেতর জীবনযাপন

    উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের ঝলম গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কবির আহমদের পৈতৃক সম্পত্তি স্থানীয় প্রভাবশলী ভূমিদস্যু হায়নারা জোরপূর্বক দখল করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৯৭১ সালে দেশকে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করতে পারলেও ভূমিদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত করতে পারেনি পৈতৃক সম্পত্তি।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঝলম গ্রামের বাসিন্দা মৃত. আবদুল আওয়ালের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা কবির আহমদ (৬৫) চাকরীর সুবাধে ১৮ বছর বয়সে ঢাকা চলে যান। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকার রায়েরবাগ থাকতেন। ১৯৭৯ সালে অন স্টপ রিকইষ্টে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরী থেকে অব্যাহতি নেন। নারিরটানে বাড়িতে আসেন এবং জীবনের শেষ সময়টু নিজ বাড়িতে কাটিয়ে যেতে চান বলে তিনি ২০০৭ সালে এসে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন।

    এদিকে তার বাবার ২ পরিবার থাকায় মোট ২২ ঘন্ডা সম্পত্তির অর্ধেক মালিক হয়ে যায় তার বাবার ২য় স্ত্রী। কবির আহমদ ঢাকা থাকা অবস্থায় তার বাবার সম্পত্তির অর্ধেক মালিকানা দাবিদার তার সৎমায়ের পরিবারের সদস্যরা বুঝিয়া পাওয়ার পরেও তারা জোরপূর্বক কবির আহমদের সম্পত্তি ভোগদখল করছে। এ সব বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে কবির আহমদের স্ত্রীসহ একই বাড়ির মোস্তফা, বাশার, আবুল কাসেম, কালাম, হাসান ও শহিদ উল্লাহ কতৃক নির্যাতনের শিকার হন।

    কবির আহমদের স্ত্রী জান্নাত জানান, আজ থেকে ৬ বছর পূর্বে একই বাড়ির আনোয়ার তাকে মারধর করে। তাছাড়া ২০১৪ সালে তাদের বসত ঘর ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা চালালে কবির আহমদের স্ত্রী বাদী হয়ে বরুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করে। পরে পুলিশের সহায়তা আপতত রক্ষা পেলেও সে নিরাপত্বা খুব বেশী দিন টেকেনি।

    কবির হোসেনের পৈতৃক সম্পত্তির ২২ ঘন্ডা সম্পতির অর্ধেক ১১ ঘন্ডা জমির মালিক হওয়া সত্বেও তিনি মাত্র ২ শতক জমির উপর ছোট একটি বস ঘর তৈরি করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি তার সম্পত্তি ফিরে পেতে ২০০৯ সালে কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি চলমান। কবির হোসেনের অভিযোগ তাদের নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। তার বসত ঘরের সাথে শহিদ উল্লাহ গরুর ঘর নির্মান করে গবাদিপশু লালন পালন করছে। পশুর প¯্রাফ পায়খানার দুগন্ধে জীবন দুর্বিষ হয়ে পড়েছে। সে তার সন্তানদের অনিশ্চিত ভবিশ্যত নিয়ে ভাবতে ভাবতে অসুস্থ্য হয়ে পরেছেন। বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে তার দেহ। অর্থনৈতিক অভাবে ভালো করে নিজের চিকিৎসাও করতে পারছেন না। মামাল সমুদয় খরছ বহনেও অপারগতা দেখা দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিয়ে তার কোনরকম সংসার চলে।

    তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে তার আর্তনাত ও উৎকন্ঠা হৃদয়ে বলতে চায়, তাকে তার সম্পত্তি ফিরে পেতে সবার্ত¦ক সহযোগীতা করতে। সে এ শেষ যুদ্ধেও জিততে চায়।

    উল্লেখ্য তিনি ১৯৭১ সালে সিলেটের সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশারফরের অধীনে ২ নম্বর সেক্টরে ক্যাপ্টেন হায়দারের সাথে মুক্তিযোদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

    এব্যাপারে বিবাদী গং ও শহীদ উল্লাহ জানান, তারা কেউ তার সম্পত্তি দখল করছে না। সে তার নিজ জমির উপর গরুর লালন পালন করছে, এতে কারো ক্ষতি হলে কার কি যায় আসে যায় বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

    এ বিষয়ে ঝলম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল ইসলাম জানান, কবির আহমদ তার অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ করলে তিনি উভয় পক্ষকে শালিশের জন্য আহবান করেন। বিবাদীগন আস বসবে কাল বসবে বলে দিনের পর দিন পার করে দিচ্ছে কিন্তু বসার কোন নাম নেই। তাদের চেয়ারম্যান অফিসে দেখা করার কথা বললে বলে তারা এলাকায় বসে মিমাংশা করবে জানায়। তিনি চেষ্টা করছেন মুক্তিযোদ্ধা কবির আহমদের সম্পত্তির তার পাওনা অংশ তাকে উদ্ধার করে দিতে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে onusondhanbd24.com