অাপসহীন সত্যান্বেষী
  • শিরোনাম

    স্বাধীনতা দিবসে কুমিল্লায় সড়কে ২ ছাত্রীর লাশ, আহত-৭ , সড়ক অবরোধ লাঠিচার্জ

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ | বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯

    স্বাধীনতা দিবসে কুমিল্লায় সড়কে ২ ছাত্রীর লাশ, আহত-৭ , সড়ক অবরোধ লাঠিচার্জ

    কুমিল্লার সদর দক্ষিণ ও চান্দিনা মহাসড়কে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই স্কুল ছাত্রী নিহত হয়েছে। এর প্রতিবাদে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এক ঘণ্টা বিক্ষুব্ধজনতা ও শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। ঘটনাস্থল পরিদর্শণে পুলিশ পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক।

    মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয় টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি লেগুনা খাদে পড়ে রিনা সাহা নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এছাড়া সকাল নয় টায় চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর এলাকায় ট্রাকচাপায় নিহত হয়েছে মাহমুদা আক্তার ইয়াসমিন নামে আরেক স্কুলছাত্রী।

    সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকালে লেগুনাযোগে বাড়ি থেকে স্কুল যাচ্ছিল রিনা সাহা। মোস্তফাপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লেগুনাটি খাদেপড়লে ঘটনাস্থলেই ওই স্কুলছাত্রী নিহত হয়। আহত হয় আরও পাঁচ শিক্ষার্থী । তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত রিনা সাহা সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া গ্রামের লবু সাহার মেয়ে। সে বিজয়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রীনে আনেন।

    এদিকে কুমিল্লার চান্দিনায় গ্যাসলাইন নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর চাপায় মাহমুদা আক্তার ইয়াসমিন (১৫) নামে এক স্কুল ছাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯টায় চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রাক্টর চালক মনোয়ার হোসেন (১৮)-কে আটক করে স্থানীয়রা। নিহত স্কুলছাত্রী মাহমুদা আক্তার ইয়াসমিন চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের মনির হোসেন এর মেয়ে। সে কুটুম্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনির হোসেন জানান, ২৬ মার্চ উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে। সকাল ৯টার ছাত্রীরা বিদ্যালয়ের দিকে আসছিল। ১৭-১৮ বছরের একটি ট্রাক্টর চালক মেয়েগুলোকে দেখে জোরে হর্ন চেপে ট্রাক্টরটি রাস্তায় এদিক-সেদিক ঘুরাচ্ছিল। এ সময় ট্রাক্টরের সাথে ধাক্কা লেগে একজন পানিতে পড়ে যায় আরেকজন চাকায় পিষ্ট হয়। এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা স্কুলের পাশের মহাসড়ক অবরোধ করে।

    পরে হাইওয়ে পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের প্রহার করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের লাঠির আঘাতেইয়াছিন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়। তার মাথায় পেছনের অংশ ফেটে গেলে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    আহত শিক্ষার্থী ইয়াছিন জানায়, চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আমরা মহাসড়কে অবস্থান নেই। এ সময় পুলিশ এসে আমাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে পুলিশের এক সদস্য লাঠি দিয়েআমার মাথায় আঘাত করে।

    এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাটি মহাসড়কে হয়নি। আঞ্চলিক সড়কে হয়েছে। আর শিক্ষার্থীরা এসে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।এ সময় শিক্ষার্থীদের সরে যেতে অনেকবার বলা হলেও তারা কথা শোনেনি। এখানে হাইওয়ে ও থানা পুলিশ ছিল। পুলিশের কোনো সদস্য এমন কান্ডজ্ঞানহীন ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা আমার জানা নেই।

    এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) মহিদুল ইসলাম জানান, আমরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছি।

    এদিকে, দুপুর সোয়া ১২টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম, চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এমজাকারিয়া। জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর নিহতের পরিবারকে নগদ ২০ (বিশ হাজার) টাকা ও ৬ লক্ষ টাকার চেকসহ আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। এবং শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করে পরিস্থিতিশান্ত করার চেষ্টা করেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে onusondhanbd24.com