• শিরোনাম

    দেবিদ্বারে বৃদ্ধা শাশুড়িকে বালিশ চাপা দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে ঘরজামাই

    এস এম মাসুদ রানা | বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর ২০১৮

    দেবিদ্বারে বৃদ্ধা শাশুড়িকে বালিশ চাপা দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে ঘরজামাই

    কুমিল্লার দেবিদ্বারে বৃদ্ধা মহিলা খুনের ১২ ঘন্টার মধ্যে হত্যা রহস্য উন্মোচন করে ঘাতককে আটক করেছে থানা পুলিশ।দেবিদ্ধার উপজেলায় মাটির ভিটির টিনের ঘরে সিঁধ কেটে ঢুকে নিজ শাশুড়িকে বালিশ চাপা দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে ঘরজামাই। হতভাগ্য শ্বাশুড়ির নাম ফরিদা বেগম(৬২)। তিনি ধামতি পূর্বপাড়া খোশকান্দি গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী। আর ঘাতক পাষন্ড ঘরজামাই মনির হোসেন(৩৫) ভিকটিমের সৎ মেয়ে আয়েশার স্বামী। ফরিদা বেগমের বসত ঘরের পাশেই ঘরজামাই মনির শ্বশুরের দেয়া জায়গায় আলাদা একটি ঘর তুলে স্ত্রী সন্তানসহ বসবাস করত। কখনো রাজমিস্ত্রীর কাজ আর কখনো অটো চালিয়ে সংসার চালাত সে। তার মূলবাড়ি দেবিদ্বারের খয়রাবাদ গ্রামে হলেও বর্তমানে ওখানে তাদের কোন সহায় সম্পত্তি নাই। শ্বসুরের ঠিকানাতেই থাকত সে।
    বুধবার ( ৯ অক্টোবর) সকালে খোশকান্দি গ্রামে বয়স্ক এক মহিলার লাশ তার টিনশেডের বসত ঘরের বিছানায় পড়ে আছে এবং ঘরের জানালা বরাবর নীচে মাটির ভিটিতে সিঁধ কাটা আছে মর্মে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে টিম দেবিদ্বার ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহের সুরতহাল তৈরী করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ সময় ভিকটিমের আত্মীয় স্বজনরা দীর্ঘ ৫/৬ বছর ধরে শ্বাসকষ্টে ভোগা ৬২ বছর বয়সী ফরিদার মৃতদেহের ময়না তদন্ত করতে দিতে রাজি হচ্ছিলনা। তাদের প্রাথমিক ধারনা ছিল ঘরে চোর ঢুকেছিল আর চোর দেখেই হয়ত শ্বাসকষ্ট উঠে মারা গেছে ফরিদা। সুরতহাল তৈরীর সময় ভিকটিমের শরীরের কোথাও কোন দাগ বা জখম দেখা না গেলেও ঘরে সিঁধ কাটা দেখে এবং ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি খুঁজে না পেয়ে আমরা মৃত্যুটি স্বাভাবিক নয় বলে নিশ্চিত হই । সিঁদ কাটা জায়গা দিয়ে একজন চিকন মানুষেরও ঢোকা বা বের হওয়া সম্ভব নয় দেখে আমরা ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে থাকে। একপর্যায়ে জানা যায় সৎ মেয়ে আয়েশার জামাই মনিরের স্বভাব ভালো নয়। সে শ্বাশুড়িকে সহ্য করতে পারতনা।

    সে প্রায়ই ঝগড়া ও মানষিক অত্যাচার করত শ্বাশুড়িকে। সেই কারনে মনিরকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়। সেখানে সে জানায়, তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে আর ঘর জামাই বলে প্রায়ই খোটা দেয়া হত বলে ভেতরে ভেতরে শ্বাশুড়ির প্রতি তার মন বিষিয়ে উঠেছিল। সপ্তাহখানেক আগে পরিকল্পনা করে ৮ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে একাই সিঁধ কাটি। তারপর ভেতরে হাত ঢুকিয়ে জানালা খুলে ঘরে ঢুকে বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে বুকের উপর উঠে বসে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করি শ্বাশুড়ি ফরিদাকে। অতঃপর ঘরে কোথাও টাকা পয়সা আছে কিনা খুঁজে না পেয়ে শ্বাশুড়ির মোবাইলটা নিয়ে পুকুরের পানিতে ফেলে দিয়ে কোদাল নিজ ঘরে রেখে ঘুমিয়ে পড়ি।

    দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, জানায়, সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে অন্যদের সাথে স্বাভাবিকভাবে ঘাতক কান্নাকাটি করতে থাকে মৃত শ্বাশুড়ির জন্য। কিন্তু তার স্বাভাবিক কান্নাকাটির আড়ালে কিছুটা অস্বাভাবিকতা খুঁজে পাই। প্রাথমিকভাবে তাকে কিছু প্রশ্ন করা হলে সে স্বাভাবিক জবাব দিলেও আমাদের সন্দেহ এড়ায়না। তাকে নিয়ে আসা হয় থানায়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ২০ হাজার টাকা নিয়েও তাকে খারাপ ডোবা জায়গায় থাকতে দেয়া এবং সবসময় ঘরজামাই, খারাপ বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করায় প্রতিশোধপরায়ন হয়ে শাশুড়ির ঘরটি দখলে নেয়ার উদ্দেশ্যে ঠান্ডা মাথায় বালিশ চাপা দিয়ে একাই শাশুড়ি ফরিদাকে হত্যা করেছে মর্মে অকপটে স্বীকার করে পুলিশের কাছে। তার স্বীকারোক্তি অনুসারে পুলিশ আজ সকালে কোদাল ও বালিশ জব্দ করেছে। । এ ঘটনায় একটি হত্যাকান্ড দায়ের করা হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে onusondhanbd24.com