• শিরোনাম

    কুমিল্লায় হিজড়া শুকতারা বাহিনীর কর্মকান্ড,সাধারন মানুষকে ব্যাল্কমেইল করে অর্থ আদায়

    | সোমবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

    কুমিল্লায় হিজড়া শুকতারা বাহিনীর কর্মকান্ড,সাধারন মানুষকে ব্যাল্কমেইল করে অর্থ আদায়

    কুমিল্লা আদর্শ উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকার হিজড়া শুকতারা বাহিনীর কর্মকান্ড, সাধারন মানুষকে ব্যাল্কমেইল করে মোটা টাকার চাঁদায় আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। ক্যান্টনমেন্ট এলাকার পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে নিশ্চিন্তপুর আবাসিক এলাকাগুলোতে হিজড়া শুকতারা বাহিনীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এলাকাবাসীরা হিজড়া শুকতারা বাহিনীর কর্মকান্ড ও অত্যাচার অতিষ্ঠ। হিজড়া শুকতারা বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, পতিতাবৃত্তি, মারামারিসহ নানা ধরনের অভিযোগ থাকার পরও ক্যান্টনমেট এলাকায় ব্যবসায়ীরা হিজড়া শুকতারা বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি চান।

    সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, শুকতারা আসল ঠিকানায় কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপর ইউনিয়নের গোপালনগর ভুইয়া বাড়ির মজিদ ডাকাতের ছেলে ইসমাইল। শুকতারা হিজড়া হওয়ার পূর্বে দুইটি বিয়ে করেন। প্রথম বিয়ে করেন মুরাদনগর উপজেলার গুনজর গ্রামে ওই সংসারে একটি পুত্র সন্তানের বাবা তিনি। এর পর প্রথম বিয়ে গোপন রেখে ইসমাইল বি-পাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নে ২য় বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েকমাস পর ২য় বউ যখন জানতে পাড়ে ইসমাইলের পূর্বের একটি বিয়ে খবর, তখন ওই সংসারের জামেলা সৃষ্টি হয়। এর পর ২য় বউ তার বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা থেকে বাচঁতে ইসমাইল খুলনা গিয়ে অপারেশনের মাধ্যমে মহিলা হিজড়া হন। ইসমাইলের বাবা ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলার নামকরা মজিদ ডাকাত হিসাবে বেশ পরিচিত। এই ডাকাতির কর্মকান্ডের জন্য তাদের পরিবারকে এলাকা ছাড়া করেন দেবিদ্বারবাসী। পরবর্তীতে হিজড়া শুকতারা বাহিনীর বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের সাথে বাড়ি ভায়া নিয়ে ডাকাতির কর্মকান্ড পুনরায় চালিয়ে যান। এই বিষয়গুলো ইউনিয়নবাসীর চোখে পরলে শুকতারা বাহিনীকে ময়নামতি থেকে বের করে দেন এলাকাবাসীরা। এর পর কুমিল্লা আদর্শ উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় বাড়ি নিয়ে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, পতিতাবৃত্তির মাধ্যমে সাধারন মানুষকে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা আদায় করা ছিল তার নেশা। হিজড়া শুকতারা বাহিনীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ করেন, মতিন, ঝরনা, মোস্তফা ও স্বপনসহ একাধিক মানুষ। তাদেরকে বিভিন্ন মামলায় ও হামলায় ভয়-ভীতি দেখিয়ে ব্যাল্কমেইল করে মোটা অংকের অর্থ আদায় করেন। হিজড়া শুকতারার প্রধান হাতিয়ার নয়ন নামের মেয়েটিকে দিয়ে সহজ সরল লোকদের সাথে অপকর্ম করায়। ওই অপকর্ম গোপনে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও করে তাদেরকে ব্যাল্কমেইল করে। এই ধরনে অভিযোগে নিমসার কাচাঁবাজারের এক ব্যবসায়ী ও দেবিদ্বারের ধামতীর এক লোক এবং নিশ্চিন্তপুরের একাধিক লোককে ব্যাল্কমেইল করে লক্ষ টাকা আদায় করেন।

    এবিষয়ে মতিনসহ একাধিক লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায, ক্যান্টনমেন্ট নিশ্চিন্তপুর আবাসিক এলাকা হিজড়া শুকতারা চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, পতিতাবৃত্তি, মারামারিসহ নানা ধরনের অপরাধ করছে এবং তাদেরকে জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে এলাকা কিছু বড় ভাইদের আশ্রয়ের কারনে সাধারন মানুষ আজ জিম্মি। ফলে এদের অত্যাচার দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং টাকার জন্য মানুষকে নাজেহাল করছে, তার বাহিনীর মূল উদ্দেশ্য মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিনা পরিশ্রমে অর্থ উপার্জন করা। তারপর জবরদস্তি করে হলেও টাকা আদায় করে ছাড়ে। যদি কোনো কারণে টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে তখন তাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল বাক্যবর্ষণ শুরু হয়। সাধারণত হিজড়াদের নিয়ে কেউ ঘাঁটাতে চায় না।

    এব্যাপারে নিশ্চিন্তপুরের জহিরুল ইসলাম (পুরুষ হিজড়া) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ২৫ আগষ্ট রাতে শুকতারা ও তার সঙ্গী আশা বেগম এর সাথে অপরাধমূলক কাজে যাইতে বলে, আমি তাদের সাথে অপরাধমূলক কাজে যাইতে না চাইলে শুকতারা বাহিনী আমাকে জোরপূর্বক অপহরন করে নিয়ে যান দেবিদ্বারের একটি বাড়িতে। ওই বাড়িতে আমার উপর অমানুষিক অত্যাচার করে এবং সাথে থাকা ৩ হাজার টাকা ও আইটেল টাচ্ মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান এবং আমাকে আটক করে আমার নিশ্চিন্তপুরের বাড়িতে থাকায় একাশি কাঠের ৩৫হাজার টাকার খাটটি বিত্রুয় করে দেন।পরবর্তীতে কৌশলে শুকতারা বাহিনীর কবল থেকে পালাইয়া এসেছি। এর পর থেকে আমাকে মোবাইলে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকী দেন এবং প্রান নাসের হুমকি ও ভয়-ভীতি প্রদান করে। গত ৪/৫ মাস পূর্বে আমাকে কৌশলে খুলনা নিয়ে শুকতারা বাহিনী অপারেশনের মাধ্যমে মহিলা হিজড়া বানানোর অপচেষ্টা করে। আমি অনেক কষ্টে খুলনা থেকে পালাইয়া এসেছি।

    আরেকজন নিশ্চিন্তপুরের জাহের আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ২৪ আগষ্ট রাত ১১টার সময় সেনানিবাসের সুপার মার্কেট এর সামনের ওভার ব্রীজের নিচে ফলের চালান করার জন্য ফেনির উদ্দেশ্যে অপেক্ষারত ছিলাম, হঠা করে শুকতারা বাহিনীর শুকতারা ও তার ভাই মিজান, রোস্তম, হাবিব ও ইউনুছ, যোবায়েরসহ আরও কয়েকজন আমাকে মারধর করে আমার কোমড়ে বাঁধা কাপড়ের পোটলি থেকে ৫০ হাজার টাকা ও ২টি মোবাইলসহ গাড়ী ভাড়া জন্য ৪/৫ হাজার ছিনিয়ে নেয়। পরে আমি কুমিল্লা সেনানিবাস ডিজিএফ আই ও কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ করি।

    এবিষয়ে নাজিরা বাজার পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ মো.মাহমুদুল হাসান (রুবেল)বলেন, শুকতারা বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ শুনতেছি, বর্তমানে দুইটি অভিযোগ গ্রহন করেছি। অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে গিয়ে সত্যতা যাছাই কওে অভিযুক্তদেও বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কয়েক মাস পূর্বে শুকতারা একটি মিথ্যায় অভিযোগের কারনে এলাকা ব্যপক সুনাম নষ্ট হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আমাদের জানান।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে onusondhanbd24.com