• শিরোনাম

    টাকা যায় কার পকেটে?

    অনলাইন ডেস্ক : | শুক্রবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৮

    টাকা যায় কার পকেটে?

    ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের চাপ বেড়েছে অনেক। দূরপাল্লার গাড়ির সঙ্গে অটোরিকশা (অটো) চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা রোধে এ মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন, বিশেষ করে সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করে সরকার। পরে অটোরিকশা চলার বিকল্প সড়কে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেয় প্রশাসন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এ জন্য প্রতি অটোরিকশাকে মাসে ২০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। এ টাকা কাদের মধ্যে ভাগ হয়, তা জানে না অটোচালকরা। অবশ্য ট্রাফিক বিভাগ বলছে, চাঁদা আদায়ের ব্যাপারটি মিথ্যা।

    সিএনজিচালিত অটোরিকশায় টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে করটিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কে ভারী যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিপুল অটোরিকশা চলছে। অটোরিকশার চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকার নিষিদ্ধ করার পরও মাঝেমধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে তিন চাকার যান বা অটোরিকশা চলাচল করত। পরে প্রশাসনের দৃঢ়তায় মহাসড়কে অটো চলাচল বন্ধ হলে টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের আশেকপুরে উপজেলা পরিষদ থেকে একটু এগিয়ে মীরের বেতকা হয়ে বিকল্প সড়ক দিয়ে করটিয়া ও এর আশপাশে চলাচল করে। সে সড়ক বেহালের কারণে অটোরিকশা চালাতে খুব সমস্যা হতো। পরে সড়কটিতে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন মানুষের দুর্ভোগের কথা ভেবে সড়কটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত চলতি বছরের শুরু থেকে মহাসড়ক দিয়ে অটো চলাচলের অনুমতি দেয় প্রশাসন। অবশ্য এ জন্য প্রতি অটোরিকশা থেকে প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। এই টাকা আদায় করা হয় অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের মাধ্যমে। পরে টাকাগুলো ভাগ করা হয়। যেসব অটোরিকশার মালিক টাকা দিয়েছে, তাদের একটি টোকেন দেওয়া হয়েছে। অটোরিকশার সামনের কাচের (গ্লাস) এক পাশে সেই টোকেন লাগানো রয়েছে। লাল তারকাচিহ্নের মধ্যে সবুজ রঙের অটোরিকশার ছবি, এর নিচে লেখা ‘ঢাকা রোড’। সেখানে অটোরিকশার টোকেন নম্বর। মার্চ মাস থেকে টোকেনের রং পরিবর্তন করা হয়েছে। মার্চে বাঘের ছবিসহ এবং এপ্রিল মাসে দোয়েল পাখির ছবি দিয়ে টোকেন করা হয়েছে। প্রতি মাসেই টোকেন পরিবর্তন করা হবে বলে অটোচালকরা জানায়। এই টোকেন যাতে কেউ জাল করতে না পারে, যারা চাঁদা দিয়েছে তাদের চিহ্নিত করতে এবং চাঁদা না দিয়ে যাতে মহাসড়কে কেউ অটো চালাতে না পারে সে জন্যই এ ব্যবস্থা বলে জানায় চালকরা।

    অটোচালকরা জানায়, যেসব অটোতে টোকেন থাকবে সেগুলো মহাসড়কে আটকানো হবে না। টোকেন ছাড়া অটো উঠলে আটকানো হবে। তবে সরকারের বড় কোনো কর্মকর্তা এলে অথবা দুর্ঘটনা ঘটলে তখন অটো চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হবে বলে তাদের ‘অদৃশ্য প্রশাসন’ জানিয়েছে। ‘অদৃশ্য’ ওই প্রশাসন মহাসড়কে অটো চলাচলের জন্য শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের মাধ্যমে প্রতি অটো থেকে ২০০ টাকা করে নেয়। কয়েকজন অটোচালক বলে, মীরের বেতকা সড়ক মেরামত শেষ না হওয়ায় মহাসড়ক দিয়ে অটো চালাতে হচ্ছে। এই অনুমতি দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ। কিন্তু সে জন্য টাকা দিতে হবে কেন? এই টাকা না দিতে হলে তারা আরো খুশি হতো।

    টাঙ্গাইল শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মামুনুর রশিদ টুটুল জানান, তাঁদের সমিতির আওতায় ঢাকা রোডে (শহর বাইপাস-করটিয়া) ৩০০ অটোরিকশা রয়েছে। আগে মীরের বেতকা দিয়ে করটিয়া ও এর আশপাশে অটো চলত। কিন্তু সড়কটি সংস্কার শুরু করায় পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মহাসড়কের পাশে মাটির অংশ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তবে এ জন্য সতর্ক থাকতে সমিতির লোক মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, মহাসড়কে সাময়িকভাবে অটো চলছে। অটোতে বিভিন্ন ছবিসহ টোকেন দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্য সড়কের কোনো অটো মহাসড়কে চলতে না পারে। তিনি বলেন, মহাসড়কে অটো চলাচলের জন্য কাউকে চাঁদা দেওয়া হচ্ছে না। মীরের বেতকার সড়ক ঠিক হলে তখন আর মহাসড়ক দিয়ে অটো চলবে না।

    টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস দিয়ে করটিয়ায় অটো চলাচল করতে দেওয়া হয়েছে। মীরের বেতকার সড়ক ঠিক হলে তাদের আর মহাসড়ক ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। মহাসড়কে অটো চলার জন্য কোনো চাঁদা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। মানুষের চরম দুর্ভোগ কমাতে অটো চলতে দেওয়া হচ্ছে। এখানে চাঁদা কেন নেওয়া হবে?

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে onusondhanbd24.com