• শিরোনাম

    কুমিল্লা নগরীর ছাত্রাবাসে কলেজ ছাত্র হত্যাকান্ডের মূল ঘাতক রানা গ্রেফতার

    | শনিবার, ০৭ এপ্রিল ২০১৮

    কুমিল্লা নগরীর ছাত্রাবাসে কলেজ ছাত্র হত্যাকান্ডের মূল ঘাতক  রানা গ্রেফতার

     

     

    মাহফুজ আহম্মেদ,কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ

    কুমিল্লা নগরীতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি কারী ছাত্রাবাসে কলেজ ছাত্র সাগর দত্ত হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মেচন করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। জিম্মি করে টাকা আদায় করতে গিয়েই সোহাগ উদ্দিন রানা ও নাসির নামে তার এক সহযোগী মিলে সাগরকে খুন করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ।গ্রেফতারকৃত আসামী সোহাগ উদ্দিন রানা(৩০)জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাতাবাড়িয়া গ্রামের সেলিম জাহাঙ্গীরের পুত্র । শনিবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। দুপুর ১টায় শুরু হওয়া এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি রানা ও নাসির মিলেই সাগরকে হত্যা করেছে। মামলার অপর আসামি নাসিরকে গ্রেপ্তার করতে পারলেই আরো বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে । এছাড়াও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে জানানো হয়, তদন্তের সার্থে বিষয়টি এখন গোপন করা হচ্ছে। তবে অস্ত্রের যোগানদাতাকেও অচিরেই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কমকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।এব্যাপারে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো.শাহ্ কামাল আকন্দ পিপিএম ডাক প্রতিদিন কে জানান, ঘটনার পরপরই কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো.শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম- এর নির্দেশে ও সদর সার্কেল, তানভীর সালেহীন ইমন স্যারের এর নেতৃত্বে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.ছালাম মিয়া , কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার, এসআই মোঃ সহিদুল ইসলাম পিপিএম ও কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মোঃ মজনুদের নিয়ে বিশেষ দুটি টিম গঠন করে গোয়েন্দা ফাঁদ সৃষ্টি করে কৌশলে ভূমিকা নিয়ে যৌথ অভিযানে শুক্রবার রাত্র প্রায় ১১টার সময় মূল ঘাতক সোহাগ উদ্দিন রানাকে ঢাকা‘র কমলাপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করি। এই ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা রুজু হয়। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত পিস্তল, গুলি ও ছুরি উদ্ধার করা হয়।আসামী এবং পুলিশ সুত্রে জানা যায় , সোহাগ উদ্দিন রানা স্টুডেন্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যায়। ঐ খানে একটি পেট্রোল পাম্পে চাকুরি নেয়। অবৈধ ভাবে থাকাতে মালয়েশিয়ার পুলিশ তাকে আটক করলে সে মালয়েশিয়ায় দেড় মাস জেল খাটে। পরে সে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশী একজন দালালকে ধরে। দক্ষিণ আফ্রিকা যেতে তার ৬ লক্ষ টাকা লাগে। তার বাবা মা’র সামর্থ নাই টাকা দেয়ার। সে ৪ জন লোক মালয়েশিয়া নেয়ার কথা বলে এলাকা থেকে তার বাবার মাধ্যমে ৮ লক্ষ টাকা নেয়। ৬ লক্ষ টাকা দালালকে দেয়। কিন্তু সে দক্ষিণ আফ্রিকা যেতে পারে নাই। ৪ জনের নিকট থেকে তার বাবার মাধ্যমে ৮ লক্ষ টাকা নেয়ায়, ঐ লোকজনদের চাপে তার বাবা জায়গা-জমি বিক্রি করে ঐ টাকা পরিশোধ করে। সে কাউকে না জানিয়ে দেশে চলে আসে। তার বাবা-মা সবাই জানে সে বিদেশে আছে। সে দেশে এসে টাকা পয়সার চাপে একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয়, অস্ত্র কিনে কাউকে জিম্মি করে টাকা সংগ্রহ করবে। সে অনুযায়ী এক জনের কাছ থেকে ৭৫হাজার টাকার বিনিময়ে ৭.৬৫ পিস্তল কিনে। ঘটনার ২/৩ দিন পূর্বে কুমিল্লা রেইসকোর্স সাকিনের চিন্ময় ভৌমিকের বি, এইচ ভূইয়া হাউজ নামীয় বাড়ীর নিচতলায় বাসা ভাড়ার লিফলেট দেখে সে এবং তার সহযোগী নাসির ঐ বাসার মেসে থাকা ছাত্রদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের কৌশল গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ঐ মেসে যায় এবং বাসা ভাড়া নেয়ার কথা বলে ঘটনার আগের দিন বাসা ভাড়া বাবদ ১হাজার টাকা ঐ মেসে থাকা সজিবের কাছে অগ্রিম দিয়ে আসে। পরদিন সে এবং তার সহযোগী নাসির বাসায় প্রবেশ করে। তারা সাগর ও সজিবকে মেয়েদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক আছে বলে ব্লেকমেইল করে। একপর্যায়ে তাদেরকে রশি দিয়ে বেঁধে তাদের পিতা মাতার নিকট থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে। সাগর ও সজিবকে চেয়ারের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং তাদেরকে ঘুমের ঔষধ খাওয়ায়, কিন্তু তারা ঘুমায় না। সারা রাত তারা সাগর ও সজিবকে নির্যাতন করে। সাগর একপর্যায়ে রশি খুলে ফেলে চিৎকার দেয়। ভোর হয়ে যায়, বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাবে বিধায় তারা সজিব ও সাগরকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘাতক সোহাগ উদ্দিন রানা সজিবকে পিস্তল দিয়ে বুকে ১ রাউন্ড গুলি করে। তখন পিস্তল আটকে যায় আর গুলি করতে পারেনি। পরে সোহাগ উদ্দিন রানা ছুরি দিয়ে সাগরের গলায় আঘাত করে হত্যা করে ২ জন দুই দিকে চলে যায়।
    উল্লেখ্য, গত বুধবার ভোর সাড়ে ৬টায় কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকার বিএইচ ভূঁইয়া হাউজ নামে একটি ভবনের নিচ তলা থেকে লাশ ও গুলিবিদ্ধ ছাত্রকে উদ্ধার করে পুলিশ । নিহত ছাত্র সাগর দত্ত কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বারেরা ইউনিয়নের চিররা গ্রামের সংকর দত্তের বড় ছেলে। নিহত সাগর কুমিল্লা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। আহত সজিব সাহা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর উপজেলার উজান চর গ্রামের রাকাল শাহার ছেলে। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ডিগ্রি পাস শেষ বর্ষের ছাত্র । সাগর নিহত হলেও আহত সজিবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয় ।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে onusondhanbd24.com