• শিরোনাম

    কুমিল্লায় আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে যানবাহন ভাংচুর

    অনুসন্ধান ডেক্সঃ | শুক্রবার, ০৬ এপ্রিল ২০১৮

    কুমিল্লায়  আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে যানবাহন ভাংচুর

    কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে আধিপত্য বিস্তাররের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে মোটরসাইকেল, গাড়ি ও সিএনটিচালিত অটোরিকশাসহ অন্তত ২৫টি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আগুন দেওয়া হয়েছে অন্তত পাঁচটি মোটরসাইকেলে। আজ শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার সদরের মনোহরগঞ্জ বাজার, ঝলম উত্তর ইউনিয়নের বড় কেশতলা, লালচাঁদপুর ও ছিখোটিয়া এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রতক্ষ্যদর্শী, স্থানীয় এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, সকালে উপজেলার ঝলম উত্তর ইউনিয়নের বড় কেশতলা গ্রামে কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ওরফে চৈতি কালামের অনুসারী হুমায়ুন কবির পণ্ডিতের বাড়িতে তাঁর বাবার কুলখানি অনুষ্ঠানে যোগদানকে কেন্দ্র করে একটি শোভাউন নিয়ে মনোহরগঞ্জে প্রবেশ করবেন আবুল কালাম। খবর পেয়ে উপজেলা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমিল্লা ৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সদস্য কর্নেল (অব.) এম আনোয়ারুল আজিমের অনুসারী নেতাকর্মীরা। সকাল ১০টার পর থেকে উপজেলার সদরের মনোহরগঞ্জ বাজার, ঝলম উত্তর ইউনিয়নের বড় কেশতলা, লালচাঁদপুর ও ছিখোটিয়া এলাকা দিয়ে কালামের অনুসারী ও কালাম নিজে মনোহরগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করলে আজিমের অনুসারীরা তাদেরকে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশের সহযোগিতায় মনোহরগঞ্জ এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন বিএনপি নেতা আবুল কালাম। এদিকে, সংঘর্ষ চলাকালে দুটি মাইক্রোবাস, ৮-৯টি মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ প্রায় ২৫টি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া পাঁচটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। উপজেলার বড় কেশতলা গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, কালামের অনুসারী বিএনপিকর্মী কবির পণ্ডিতের বাবা মারা গেছেন গত প্রায় দেড় বছর আগে। তার পিতার কুলখানির নাম ব্যবহার করে মনোহরগঞ্জে একটি শোডাউন করতে চেয়েছিলেন আবুল কালাম।

    মনোহরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি (আজিম গ্রুপ) মো. ইলিয়াছ পাটোয়রি বলেন, ‘লাকসাম ও মনোহরগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে আনোয়ারুল আজিমের বিকল্প নেই।

    আবুল কালাম একটি মিথ্যা কুলখানির ব্যানারে মনোহরগঞ্জে প্রবেশ করে শোডাউন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আজিম ভাইসহ আমাদের কোনো নির্দেশনা না দেওয়া সত্ত্বেও বিএনপির তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা কালামের সেই চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন। বিএনপি নেতা আবুল কালামের অনুসারী মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলন  বলেন, ‘কবির পণ্ডিতের বাড়িতে আমাদের দাওয়ার করা হয়েছে। সেখানে যাবার সময় আমাদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। পরে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া আমাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মো.আনোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপির কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে onusondhanbd24.com