• শিরোনাম

    কুমিল্লায় ভন্ড কবিরাজ নিয়ে তোলপাড়

    অনলাইন ডেস্ক : | রবিবার, ০১ এপ্রিল ২০১৮

    কুমিল্লায় ভন্ড কবিরাজ নিয়ে তোলপাড়

    কুমিল্লায় মাহাবুব নামের এক ভন্ড কবিরাজ দ্বারা প্রাবাসীর শিশু সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শুধু এ ঘটনাই নয় এর আগেও বেশ কিছু অপরাধমূলক কাজের কারনে আলোচনায় আসেন ভন্ড কবিরাজ মাহাবুব। সাংবাদিক নির্যাতন ও পুলিশের হাতে ৩ ভারতীয় নাগরিক সহ আটকের ঘটনা অন্যতম।

    তবে অতীতের সবকয়টি ঘটনা থেকে ভন্ড কবিরাজ মাহাবুব নিজেকে রক্ষা করেছেন সু-কৌশলে। এবার এ ভন্ড কবিরাজের বিরুদ্ধে এক প্রাবাসীর শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    এ ঘটনায় সর্বত্র ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, শনিবার কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় ভণ্ড কবিরাজ মাহবুবুর রহমান ও তার খাদেমের বিরুদ্ধে তিন বছরের শিশু শেখ ফরিদকে কবিরাজি চিকিৎসার নামে হত্যার অভিযোগ উঠে।

    অভিযুক্ত কবিরাজ মাহবুবুর রহমানের বাড়ি উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কুচাইতলী, আর খাদেমের বাড়ি নগরীর মোগোলটুলি এলাকায়। শিশু শেখ ফরিদ কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি (ঝুমুর সংলগ্ন) সিন্দুরিয়া পাড়া গ্রামের প্রবাসী জামাল হোসেনের একমাত্র সন্তান।

    শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিন বছরের ছোট্ট শিশু শেখ ফরিদ বেশি দুষ্টুমি করার কারণে শুক্রবার সকালে ওই কবিরাজের কাছে নিয়ে যান তার মা। কবিরাজের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী দুষ্টুমি কমাতে ফরিদকে তিন দিনের জন্য কবিরাজের কাছে রেখে আসেন তার মা।

    ওইদিন রাতে মোবাইল ফোনে কবিরাজের কাছে ছেলের খবর নেন তিনি। কবিরাজ জানায়, ‘ছেলে ফরিদ ভালো আছে। চিকিৎসা চলছে। রবিবারে এসে নিয়ে যাবেন। একেবারে ভদ্র ও শান্ত হয়ে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

    এরপর শনিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সাদা কাফনে মোড়ানো শিশু ফরিদের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের বাড়িতে পাঠায় কবিরাজ মাহবুবুর রহমান। মোবাইল ফোনে সে ফরিদের মাকে জানায় ‘জিনে মেরে ফেলেছে সকালে, গোসল ও জানাজা হয়ে গেছে, দাফন করে দিন।’ অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে আসে কবিরাজের এক খাদেম।

    এ ঘটনার পর ওই এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ফরিদের মামাতো ভাই জাহিদ হোসেন এবং নিকটাত্মীয় মোবারক মিয়া বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ কবিরাজ মাহবুবুর রহমানের খাদেম ও অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারকে আটক করে।

    এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম মিয়া জানান, একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত লিখিত কোনও অভিযোগ পাইনি। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কবিরাজের দুই সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে onusondhanbd24.com