• শিরোনাম

    নাঙ্গলকোটে ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে সমাবেশ

    বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর | শনিবার, ২৪ মার্চ ২০১৮

    নাঙ্গলকোটে ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে সমাবেশ

    কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুর রাজ্জাক সুমনকে হত্যা চেষ্টায় হামলাকারীদের শাস্তির দাবীতে উপজেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নাঙ্গলকোট সরকারী কলেজ গেইটে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চিকিৎসা শেষে দীর্ঘ ১৮ দিন পর হসপিটাল ফেরত আবদুর রাজ্জাক সুমনকে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করে নেন স্থানীয় আ’লীগ-ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। ওইদিন সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে উপজেলা ছাত্রলীগ সহ¯্রাধিক মোটরসাইকেল বহর নিয়ে তাঁকে লাকসাম থেকে বরণ করে উপজেলা সদরে নিয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসায় সুমনকে উপজেলা সদরের হাজার-হাজার জনতা ও দলীয় নেতা-কর্মীরা শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় বরণ করে নেন।
    প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন কালু, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ভুঁইয়ার বক্তব্যের উদ্বৃত্তি টেনে বলেন, ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে তৎকালীন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনিকে হত্যা করেছিল বাংলার মীর জাফরেরা। ঠিক একইভাবে নাঙ্গলকোটেও আমাদের নেতা লোটাস কামালকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে হামলা করেছে আমাদের এলাকার মীরজাফরেরা। সুমন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিল, আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে। উপজেলা ছাত্রলীগ আগামী দিনেও সুমনের নেতৃত্বে আমাদের নেতা লোটাস কামালের অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দিবে। আমি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অতিদ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি।
    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ বলেন, নাঙ্গলকোটের ছাত্র-জনতার নয়নমনি আবদুর রাজ্জাক সুমনের হামলা সুপরিকল্পিত। যা আগামী নির্বাচনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্রের অংশ। সুমনকে হত্যা করা সম্ভব হলে উপজেলা আওয়ামীলীগের নের্তৃবৃন্দকে অভিযুক্ত করে নাঙ্গলকোটের রাজনীতিকে কুলসিত করার চেষ্টা সফল হতো। কিন্তু সুমন ফিরে আসায় তারা ব্যর্থ হয়েছে এবং কারা এ হামলার জন্য দায়ী তা আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা লোটাস কামালসহ সবার সামনে উম্মোচিত হয়েছে।
    আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবর্ধনা সভায় অসুস্থ আবদুর রাজ্জাক সুমন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, আমার উপর এ নিন্দনীয় হামলা ছিল সু-পরিকল্পিত। আমাদের প্রিয় নেতা, এলাকার উন্নয়নের অগ্রদূত ও বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল (লোটস) এর উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করার হীন উদ্দেশ্যে আমার উপর এ সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আমাদের প্রিয় নেতা লোটাস কামালের উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে আমরা সর্বদা জাগ্রত থাকবো। তিনি সকল নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার উপর নিন্দনীয় হামলার বিচারের দায়িত্ব এলাকাবাসীর উপর অর্পণ করেন।
    উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহবায়ক আবুল খায়ের আবু, মৌকরা ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের, আ.লীগ নেতা নুরুল্লা মজুমদার, তৌহিদুর রহমান মজুমদার, জোড্ডা পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মিয়াজী, উপজেলা যুবলীগ সদস্য সফিউল আলম মজুঃ সুমন, কবির আহমেদ মজুঃ, মক্রবপুর ইউপি যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান, নাঙ্গলকোট সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ওবায়েদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দীন, সহ-সভাপতি পারভেজ মজুমদার, মোস্তাফা কামাল, রুবেল মোল্লা, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রুবেল ও আক্তারুজ্জামানসহ উপজেলা ও ইউপি আ’লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ।
    উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ দুপুরে উপজেলা পরিষদের একটি অনুষ্ঠান অংশগ্রহন শেষে দুপুরে খাওয়ার সময় নাঙ্গলকোট পৌর বাজারের মোল্লা হোটেলে গেলে ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক সুমনকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিশুর নেতৃত্বে ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে স্থানীয় লোকজন ছুঁটে এসে আশংকাজনক অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরদিন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নাঙ্গলকোট উপজেলার এই দুই নেতাকে বহিষ্কার করেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে onusondhanbd24.com