• শিরোনাম

    বুড়িচংয়ে ৩৪ প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে

    আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়, বিড়িচং | শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭

    বুড়িচংয়ে ৩৪ প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে

    1. কুমিল্লার জেলার বুড়িচং উপজেলায় মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৩৯টি এর মধ্যে ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ের অনেকগুলোতে সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে প্রধান শিক্ষকের কাজ। সহকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব তাদের কাঁধে এসে পড়ায় দাফতরিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা বাড়তি চাপে পড়ছেন। এদিকে, অভিভাবকরা বলছেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ খালি থাকায় বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষক দিয়ে কোনোমতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে উপযুক্ত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
    অভিভাবকরা জানান, শিক্ষার্থীদের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা কম। এতে শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। সেজন্য শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে তেমন মনোযোগ দিতে পারেন না। শহরের চেয়ে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে থাকে। তাদের কাছে বিদ্যালয়-ই শিক্ষার একমাত্র জায়গা। শহরের ছেলেমেয়েরা কোচিংসহ বাসায় টিচার রেখে লেখাপড়া করার সুযোগ পায়। গ্রামের ছেলেমেয়েরা সে সুযোগ পায় না। তাই তাদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিতটা দুর্বল হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়গুলোর শূন্যপদ পূরণ করে পাঠদান কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানান এসব অভিভাবকরা।

    যে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক নাই তা হলো রাজাপুর ইউনিয়নের শংকুচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর ইউনিয়নের উত্তর বুড়িচং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় , পূর্ব জগতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর ইউনিয়নের জরুইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাদকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাদকপুর নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্যশ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ষোলনল ইউনিয়নের বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভানতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাড়াতাইয়া পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আগানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ময়নামতি ইউনিয়নের শাহ দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাজে বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারায়ণসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজাপুর ইউনিয়নের বারেশ্বর বাবুর বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজাপুর পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর ইউনিয়নের পূর্ব পূর্ণমতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোকাম ইউনিয়নের ভারিকোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আবিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোকাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চানগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পরিহল পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাকশীমূল ইউনিয়নের কোদালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফকির বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিকৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভারেল্লা ইউনিয়নের পারুয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শোভারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারাচোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভয়েরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ।

    বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরির্দশন করে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক সংকট কারণে পাঠদানে অতিরিক্ত চাপ পড়ে যায়,যার ফলে সহকারী শিক্ষকরা যে যার মতো ক্লাস করছে ও কয়েকদিন পর পর ছুটিও কাটাচ্ছে এবং ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস চলাকালীন ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়।

    উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সেলিম মুন্সী বলেন, আমরাও জানি, শূন্য পদে শিক্ষক না থাকায় অন্যদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। শিক্ষক সঙ্কটের ব্যাপারটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    নীল ছবি যেভাবে তৈরি হয়

    ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে onusondhanbd24.com