অাপসহীন সত্যান্বেষী
  • শিরোনাম

    অসহায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

    দেবিদ্বারে ৩গুন টাকা আদায় ফরম ফিলাপে!! দেখার নেই কেউ

    সাইফুল ইসলাম শিশির; কুমিল্লা ব্যুরো | বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭

    দেবিদ্বারে ৩গুন টাকা আদায় ফরম ফিলাপে!! দেখার নেই কেউ

    ফরম ফিলাপের টাকা কমাতে আবেদন করছে শিক্ষার্থীরা

    কুমিল্লার দেবিদ্বার জোবেদা খাতুন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও রাজামেহের আলহাজ্ব মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে রাজামেহের মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছে থেকে ফরম ফিলাপে রশিদ বিহীন ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা করে নেন। ওই কলেজের অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারী কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের বিধিনিষেধ মানছেনা।

    এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি-গ্রহণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকার পরেও জেলার দেবিদ্বার উপজেলার কলেজগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কয়েকগুণ অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। অপদিকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের থেকে দেবিদ্বার জোবেদা খাতুন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে কর্তৃপক্ষ ৩ গুণ বেশি টাকা আদায় ও শিক্ষার্থীদের সাথে অসৌজন্য মুলক আচরন করছে কলেজের অধ্যক্ষ।এই নিয়ে  শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এতে অনেক গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণের অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঠিক মনিটারিং না থাকায় শিক্ষাক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী সচেতন মহলের অভিমত।

    সরজমিনে দেখা যায়, অর্থ আদায়ে দেওয়া হচ্ছে না কোন রিসিট/রশিদ। দেওয়া হচ্ছে না পরীক্ষার রেজাল্ট সীট । জানতে চাইলে উত্তর দিচ্ছেনা সৌজন্য মুলক আচরন করছেনা কলেজের শিক্ষকগন।গত কয়েক দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যামে এমনকি দোকান পাট, রাস্তা ঘাটে এই নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়।চলতি বছর দেবিদ্বার জোবেদা খাতুন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজামেহের মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়ের পর কুমিল্লা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০১৮ সালের সরকারি বিধিমোতাবেক এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ বিজ্ঞান বিভাগের জন্য এক হাজার ৯ শত টাকা ও মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার জন্য এক হাজার ৭৬০ টাকা নির্ধারণ করা থাকলেও উপজেলার কলেজগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে শিক্ষার্থী প্রতি সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা। মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফি বাবদ সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারন করা থাকলিও কোন কিছু তোয়াক্কা করছেনা প্রতিষ্ঠানটি । শিক্ষা বোর্ডের চিঠি অনুযায়ী টেষ্ট পরিক্ষায় ফেল করা ছাত্রীদের এইচ এস সি পরীক্ষার ফরম পূরন নিষেধ রয়েছে তা মানছেনা প্রতিষ্ঠানটি ।২/৩ বিষয়ে ফেল করেছে ফরম ফিলাপ বাবদ ৭/৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে । কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ, কোন কোন ক্ষেত্রে তিনগুণ টাকা আদায় করছে। এতে গরীব অসহায় কৃষক পরিবারের শিক্ষার্থীরা পরেছে বিপাকে। অতিরিক্ত টাকা দিতে গরীব শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

    অনেক কৃষক পরিবারকে ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে টাকা লোন করে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা জোগাড় করতে হচ্ছে। আর যেসব গরীব মেধাবী পরীর্ক্ষাথী টাকা জোগাড় করতে পারেনি তাদের পরীক্ষা দেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হল প্রকৃত মানুষ গড়ার কারখানা কিন্তু সেখানে বে-আইনিভাবে কোন অর্থ উপার্জনের জন্য ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করে নাই যে অতিরিক্ত অর্থ আরোহন করবে । যা অত্যান্ত দু:খ ও হতাশা জনক। এই বিষয় উদ্ধৃর্তন কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজামেহের মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কলেজ ও দেবিদ্বার জোবেদা খাতুন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী ও অভিভাবক জানান, এভাবে নিয়মের বাইরে বেশি টাকা নিচ্ছে, সরকার কি এসব দেখে না।এইচএসসি শিক্ষার্থী থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ মাত্রাতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কারনে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এতে অনেক গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণের অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঠিক মনিটারিং না থাকায় শিক্ষাক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী সচেতন মহলের অভিমত।

    এব্যাপারে স্থানীয় সাংবাদিক সরজমিন যাওয়া পর ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, অর্থ আদায়ে দেওয়া হচ্ছে না কোন রিসিট/রশিদ। দেওয়া হচ্ছে না পরীক্ষার রেজাল্ট সীট। জানতে চাইলে উত্তর দিচ্ছেনা সৌজন্য মুলক আচরন করছেনা কলেজের অধ্যাক্ষ।গত কয়েক দিন যাতৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যামে ফেসবুক এমনকি দোকান পাট, রাস্তা ঘাটে এই নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। হতদরিদ্র ও অর্থ সংকটের যাতাকলে শিকার দেবিদ্বার জোবেদা খাতুন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীরা এইচএসসি ফরম ফিলাপ আর সিরিয়ালে ফি কমানোর দরখাস্ত লেখার দৃশ্য দেখে হতবাক, বিস্মিত ! শিক্ষার্থীগণের আর্তনাদ দেখে চোখের কোণায় জল ছেড়ে দেওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। মেয়েদের শিক্ষাবান্ধব দেশে এসব কি হচ্ছে ? অনৈতিক ভাবে বাড়ানো ফি দিয়ে কেন ফরম ফিলাপ করতে হবে শিক্ষার্থীদের।জোবেদা খাতুন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ মাসউদ পাখি বিভিন্ন দুর্নীতিও অনিয়মের সঠিক তদন্ত চান শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ রয়েছে এ কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ মাসউদ পাখি ফরম ফিলাপের সময় নানা অজুহাতে অনুপস্থিত থাকেন ও বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের গালাগালি দিয়ে থাকেন।কলেজ দ’ুটি প্রতিষ্ঠাতা দেবিদ্বার থেকে চারবার সংসদ সদস্য দানবীর ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী জানান ,দেবিদ্বারের প্রতিটি ইউনিয়নে স্কুল কলেজ করে স্বল্প টাকায় শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছি গরীব ও মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের ।বর্তমান সময় কলেজ দু’টি শিক্ষার নামে   শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অপকর্ম শুরু করেছে।
    এব্যাপারে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল খালেক বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাহিরে অতিরিক্ত ফি আদায় করা মানে অনিয়ম করা।এই বিষয়ে অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সাইফুল ইসলাম শিশির

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    নীল ছবি যেভাবে তৈরি হয়

    ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে onusondhanbd24.com