• শিরোনাম

    মাদকে সক্রিয় বুড়িচংয়ে দেবপুর ফাঁড়ির দু’টি ইউনিয়ন

    আবুল হাসেম শান্ত,কুমিল্লা প্রতিনিধি: | মঙ্গলবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

    মাদকে সক্রিয় বুড়িচংয়ে দেবপুর ফাঁড়ির দু’টি ইউনিয়ন

    কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি প্রত্যেকটি পাড়া-মহল্লায় যেন মাদকের মেলা বসেছে।দেখলে মনে হবে যেন পুরো ময়নামতি ভাসছে মাদকে। অথচ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন কিংবা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এদিকে কোন খেয়াল নেই।তবে পুলিশ মাঝে মধ্যে দু’একটি অভিযান পরিচালনা করে দু’একজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে চালান করে দেয়। এতেই যেন পুলিশের কার্য শেষ। সারা ময়নামতি আজ মাদকের ভয়াল রাহুগ্রাসে আক্রান্ত। উপজেলার ময়নামতি ৯টি ওয়ার্ডে চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা। কিছুতেই এ সর্বনাশা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ফলে বিপথগামী হচ্ছে তরুণ সমাজ। দুর্ভাবনায় যেন ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে অভিভাবকদের।মাঝে মধ্যে আবার দেখা যায় পুলিশ প্রশাসন মাদকসহ গ্রেফতার করলেও ৩৪ ধারায় (নন এফআইআর) তাকে আদালতে চালান দেয়া হচ্ছে। আর সহজেই বেরিয়ে এসে এরা আবার মাদক ব্যবসায় নিয়োজিত হচ্ছে।ময়নামতি ইউনিয়নের মত উত্তর ভারেল্লা ইউনিয়নেও দিন দিন মাদক সেবনকারীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে ,তেমনি মাদক ব্যবসায়ীরাও পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবস্যা । ভারেল্লা ইউনিয়ন এর কংশনগর বাজার যেন মাদকের কারখানা ।
    অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে ময়নামতি ও ভারেল্লা ইউনিয়নের কংশনগর মাদকের ভয়াল চিত্র। যেন শিউরে উঠার মত। উপজেলার বাজেবাহের চর এলাকায় মরহুম শামসুল আলমের পুত্র মিজান (কাডি মিজান),বোতল কাশেম ও তার ছেলে , ফরিদ মিয়ার পুত্র খোরশেদ আলম সহ সাহেবের বাজারের মুড়ার উপর বাড়ি আজম ও ফয়সাল, ঘোসনগরের সাহিদ চিহ্নিত ইয়াবা ও ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী মনা , নারায়নসারের জাহেদ আলীর পুত্র জাকির কাছারিতলা মিনি ইকবাল, নাজিরা বাজারের ওহিদ মিয়ার পুত্র রিপন, মাসুদ ও সাহিদ. অদুদ মিয়ার পুত্র জাহাঙ্গীর, চেকার জয়নাল মিয়া, শাহজাহান মিয়ার পুত্র ওয়াসিম, মাধব চন্দ্র সুবাদে মাদক ব্যবসায়ীরা।
    কংশনগরে প্রকাশ্যেই একাধিক স্থানে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে কামলা বাড়ি এলাকার ইয়াবা স¤্রাট ওহাব, কুলছুম, মতিন, পিচ্ছি জামাল, ইউছুব, সাইফুল,কংশনগর হাই স্কুলের সাথে বাড়ি হাসেমের সুবাদে এখানে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন শত-শত তরুণ যুবক ইয়াবা সেবীরা ইয়াবা ব্যবসায়ী বাড়ি সামনে ভীড় জমায়।এদের সেবা ও সহযোগিতা করায় জন্যা সব সময় ২/৩ জন দালালের মাধ্যমে নিরাপদে ইয়াবা সেবন করাছেন।ফলে ইয়াবা অবাধ ব্যবসা এবং ইয়াবা সেবীদের সংখা দিনের পর দিন বাড়ছে।
    সহজেই মাদক দেশের বিভিন্ন স্থান ও ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় সহজে সরবরাহ করে উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়ন,ভারেল্লা উ:ইউনিয়ন । মাদক সিন্ডিকেট এর সদস্যরা মাদকদব্য বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে থাকে তাদের এজেন্ট কিংবা বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর হাতে।
    তথ্যসূত্রে জানাগেছে, ময়নামতি বিভিন্ন মহল্লায় সিন্ডিকেট করে মাদক বিক্রি হচ্ছে যার প্রভাব সারা ময়নামতি ,কংশনগর পেরিয়ে বুড়িচং উপজেলার কিছু অংশে। এসব সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রেনে সারা ময়নামতি রয়েছে প্রায় ৩০/৩৫জন ছোট বড় মাদক ব্যবসায়ী/এজেন্ট।ময়নামতি এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতার কারণে উঠতি বয়সের স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা মাদকের দিকে ঝুকে পড়ছে। এতে অভিবাবকরা চরম সংকিত হয়ে পড়েছে।আশংকাজনক হারে মাদকের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিল্প কারখানার শ্রমিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের যুবকেরা আজ মাদকের ভয়াল থাবায়। যার কারণে উপজেলার ময়নামতিতে নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ড এলাকায় বেড়েছে।দুঃখজনক হলেও সত্য প্রত্যেক মাদক ব্যবসায়ী কোননা কোন ভাবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকে মেনেজ করেই তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সমাজে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা ধাপটের সঙ্গে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অথচ প্রশাসন তাদের ধরছেনা। যদিও প্রশাসন মাঝে মধ্যে দু‘একজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে মোটা অংকের মুক্তিপনের শর্তে তাৎক্ষনিক ছেড়ে দিচ্ছে। এছাড়া বেশির ভাগ মাদক ব্যবসায়ী প্রশাসনকে মাসিক ভাতা প্রদানের মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের মাদক ব্যবসা। কিছু দিন পূর্বে ময়নামতি ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মনা করে ইয়াবা সহ আটক করলেও মোটা অংকের অর্থের মধ্য দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় পুলিশ।
    এব্যাপারে দেবপুর ফাঁড়ি থানার আই সি আবু ইউছুফ ফসিউজ্জামান জানান ,মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে প্রশাসনের কোন বন্ধুত্ব নেই এবং থাকতে পারে । মাদকের ব্যাপারে কোন আপোষ নেই। মাদক নিয়ন্ত্রনের বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান চলছে ।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে onusondhanbd24.com